বাজেটের আগেই ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বরাদ্দ নিয়ে অংশীজন বৈঠকের তাগাদা দিলেন বিনিয়োগ উপদেষ্টা

৬ মার্চ, ২০২৩ ১১:২৪  

স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য বাজেটে বরাদ্দ প্রস্তুতে এখনই অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে তাগাদা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে টেলিকম খাতকেও সঙ্গে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রোববার সকালে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবনের (বিডা) সম্মেলন কেন্দ্রে স্মার্ট বাংলাদেশের পথরেখা নিয়ে অনুষ্ঠিত পলিসি ডায়ালগে অংশ নিয়ে এমন নির্দেশ দেন সালমান এফ রহমান।

তিনি বলেন, আমরা যেহেতু গ্র্যাজুয়েশন করেছি, তাই সামনে আমাদের সিরিয়াস চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেসব দেশ এলডিসি থেকে গ্র্যাজুয়েট হয়েছে তারা কিন্তু মিডল ইনকাম ট্র্যাপে পড়েছে। এটা একটা ভায়ানক ফাঁদ। এর উদাহরণ- হিসেবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। তবে দক্ষিণ কোরিয়া এই ফাঁদ থেকে বের হতে পেরেছে।

‘তাই লক্ষ্য ছুঁতে হলে স্মার্ট সিটিজেন ছাড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে ব্যাপক কাজ করতে হবে’- যোগ করেন সালমান এফ রহমান।

স্মার্ট ইকোনমি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য কী কী বাজেট সাপোর্ট দরকার তা নির্ণয়ে খুব বেশি একটা সময় নেই। এটাই পারফেক্ট সময়। এক-দু’ সম্পাহের মধ্যে বাজেট ফাইনালাইজেশনের দিকে যাবে। তাই, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আর্জেন্ট বেসিসে মিটিং করা দরকার। বাজেটের আগে এনবিআরের সঙ্গে বসতে হবে। .. টেলকম বিভাগগেও সাথে নিতে হবে। কেননা এখানে ব্যান্ডউইথের বিষয় আছে।    

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইসটি বিভাগের সচিব মোঃ সামসুল আরেফিন, বিডা’র নির্বাহী সদস্য মোহসিনা ইয়াসমিন, বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, বিসিএস সভাপতি সুব্রত সরকার, আইসিটি বিভাগের ইডিজিই প্রকল্প পরিচালক খন্দকার আজিজুল ইসলাম, ডিইআইইডি প্রকল্প পরিচালক ড. মুহম্মদ মেহেদী হাসান,  নিউরাল সেমিকন্ডাক্টার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  

বৈঠকে বিসিজি’র বৈশ্বিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২২ সাল পর্যন্ত ৬০ কোটি ডিজিটাল সেবা পেয়েছে নাগরিক। এতে তাদের ৬৭ শতাংশ খরচ, ৭৪ শতাংশ সময়, ৮৩ শতাংশ যাতায়াত সাশ্রয় হয়েছে।

পলক বলেন, আমাদের এখন যে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ই-সেবা, স্মার্ট কার্ড ইত্যাদির মৌলিক সফট অবকাঠামো হয়ে গেছে। এর ভিত্তিতে একটি সার্ভিস ইকো-সিস্টেম দাঁড়িয়ে গেছে। এটি ভার্টিকালি আমরা আরো উপরে উঠাতে পারি। কেননা আমাদের মডেলগুলো সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। সবক্ষেত্রেই আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। ফলে আমরা অবশ্যই ২০৪১ সাল নাগাদ আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারবো।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, তিনটি খাতের মধ্যে আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা যোগ্য মানবসম্পদ। খুব অল্প সময়ে স্টার্টআপ হলেও এক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি ভালো। একেকটি স্টার্টআপ ৬০০ জনের ওপর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তাই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দিকে নজর দিলে এই প্রবৃদ্ধিটা লাফিয়ে বাড়বে। এজন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা দেয়ার ও পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে সাহসের সঙ্গে প্রস্তুত হতে হবে।

বৈঠকের শুরুতে দক্ষ মানবস্পদ গড়ে তোলার ওপর পরিকল্পনা তুলে ধরেন সামি আহমেদ। তিনি জানান, মাল্টিপল ইউনিভার্সিটির সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় চাকিরক্ষেত্রের উপযোগী প্রশিক্ষণ দিতে পারলে অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এজন্য আমরা সেন্টার ফর ফোর আইআর স্থাপনের জন্য ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সঙ্গে কথা বলেছি।

কিন্তু এ সংক্রান্ত প্রস্তাবানা মন্ত্রী পরিষদ সচিবালয় থেকে ফেরত এসেছে জানিয়ে এক্ষেত্রে বিনিয়োগ উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। এছাড়াও সর্বশেষ প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসায়ের জন্য ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্যিক প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু করা এবং সেমিকন্ডাক্টার টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।